Showing posts with label ধর্ম ও জীবন. Show all posts
Showing posts with label ধর্ম ও জীবন. Show all posts

02 December 2019

নবীর জন্মদিনের মতো জঘন্য বিদআতে লিপ্ত হবেন নাঃ আহমদ শফি

নবীর জন্মদিনের মতো জঘন্য বিদআতে লিপ্ত হবেন নাঃ আহমদ শফি

ছবিঃ আহমদ শফি, কপিরাইট; প্রেস বাংলা এজেন্সি।
স্টাফ রিপোর্টার।। আপনারা শিরক বেদআত থেকে দূরে থাকবেন। ঈদে মিলাদুন্নবীর(নবীর জন্মদিন) মতো জঘন্য বিদআতে লিপ্ত হবেন না। কারণ বেদআত করলে তওবা নসীব হয় না। ‌হিংসা করবেন না। সুদ-ঘুষ খাবেন না। চুরি-ডাকাতি করবেন না। জিনা ব্য‌ভিচার করবেন না। মস‌জিদ-মাদরাসা ও আলেম সমাজকে মুহাব্বত করবেন। তাদের পরামর্শে জীবন প‌রিচালনা করবে।

উত্তর চট্টলার আল আমিন সংস্থার ৩দিনব্যাপি তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের সমাপনী দিবসে শুক্রবার(২৯ নভেম্বর) প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী একথা বলেছে।

মুহম্মদ আহসান উল্লাহ ও ইবরা‌হিম খ‌লিল সিকদারের যৌথ সঞ্চালনায় মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা শেখ আহমদ, মাওলানা ইদরীস ও মাওলানা আনাস মাদানীর ধারাবা‌হিক সভাপ‌তি‌ত্বে অনু‌ষ্ঠিত তাফসীর মাহ‌ফিলের সমাপ‌নী দিবস অনু‌ষ্ঠিত হয়।
ছবি কপিরাইটঃ প্রেস বাংলা এজেন্সি।

27 November 2019

পাবনায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মিলন কুমার

পাবনায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মিলন কুমার


ধর্মীয় ডেস্ক।। পাবনার সুজানগরে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মুহম্মদ ওমর ফারুক ওরফে মিলন কুমার। ওমর ফারুক বলে আমার বাড়ীর চতুর্দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর ও বসবাস হওয়ায় শৈশব কাল হতে মুসলমানদের বাড়ীতে আমার অবাধ উঠাবসা ও যাতায়াত থাকায় এবং ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে ও ধর্মীয় বই পুস্তক পড়ে ইসলাম ধর্মের প্রতি অকৃষ্ঠ হয়ে পড়ি এবং মহান আল্লাহ পাক ও রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস জন্ম নেয়। তখন হতে আমি গোপনে গোপনে ইসলাম ধর্মের আচার আচারণ ও অনুষ্ঠানাদি পালন করতে থাকি।

তিনি আরো বলেন আমি হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম ধর্মের বিধি বিধান ও আদর্শ তুলনামূলক ভাবে বিবেক বিবেচনা করে দেখলাম যে, দ্বীন ইসলাম-ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট একমাত্র মনোনীত শান্তির ধর্ম, তাই আমার নিকট ইসলাম ধর্মের আদর্শ ও রীতিনীতি ভালো লাগায় আমি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে গত ১৫ নভেম্বর জনৈক মাওলানা সাহেবের নিকট উপস্থিত হয়ে তাহার দ্বারা কালেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। সেই দিন থেকে আমার বর্তমান নাম মুহম্মদ ওমর ফরুক।

পরবর্তীতে পাবনা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে নোটারী পাবলিক বাংলাদেশ সম্পাদন করি, যাহার নাম্বার ১৫০৬, তারিখ-১৮-১১-১৯ইং। ওমর ফারুক পেশায় একজন নরসুন্দর (নাপিত)। তার দেশের বাড়ী ঝিনাইদহ সদর থানার পোড়াহাটি ইউনয়নের ভুপতিপুর গ্রামের শ্রী চন্ডি চন্দ্র দাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি সুজানগর উপজেলার হাটমালিফা গ্রামে অবস্থান করছেন।
রাজবাড়ীতে মাদরাসার সুপার হলো ইসকনপন্থি উগ্র হিন্দুত্ববাদি নেতা উত্তম কুমার

রাজবাড়ীতে মাদরাসার সুপার হলো ইসকনপন্থি উগ্র হিন্দুত্ববাদি নেতা উত্তম কুমার


স্টাফ রিপোর্ট।। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের পাটকিয়াবাড়ী দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পেয়েছে উত্তম কুমার গোস্বামী নামে ইসকনপন্থি উগ্র হিন্দু সংগঠনের এক নেতা।

সে ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক এবং বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ রাজবাড়ী জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির রাজবাড়ী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ৩১ অক্টোবর মাদরাসার সুপার অবসরে যান। এরপর সহকারী সুপার মুহম্মদ হাসান আলীকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এরই মাঝে সুপার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে ভারপ্রাপ্ত সুপার প্রার্থী হওয়ায় আমরা ম্যানেজিং কমিটি উত্তম কুমার গোস্বামীকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব প্রদান করেছি।

মাদরাসার নতুন সুপার দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত সে ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পাওয়া উত্তম কুমার গোস্বামী বলে, ম্যানেজিং কমিটি আমাকে দায়িত্ব দেয়ার পর গত বুধবার আমি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে আমি তা সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী এজাজ কায়ছার বলেন, সহকারী সুপার প্রার্থী হওয়ায় উত্তম কুমার গোস্বামীকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, সে নিষ্ঠার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে।

কিন্তু প্রশ্ন চলে আসে, একজন কট্টর ইসকনপন্থি উগ্র হিন্দুত্ববাদি কিভাবে নিষ্ঠার সাথে ইসলাম শিখার অন্যতম প্রতিষ্টান মাদ্রাসার দায়িত্ব পালন করবে। সে কি তবে মূর্তিপূজা শিখাবে নাকি নামাজ কালাম?

11 November 2019

কুষ্টিয়ায় তাহাজ্জুদ নামাজরত মুয়াজ্জিনের ওপর হামলা

কুষ্টিয়ায় তাহাজ্জুদ নামাজরত মুয়াজ্জিনের ওপর হামলা



জেলা প্রতিনিধি।। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মসজিদে মো. এমদাদুল ইসলাম (৬০) নামে নামাজরত মুয়াজ্জিনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১০ নভেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট জামে মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার সময় মুয়াজ্জিন মসজিদের ভেতরে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়রত অবস্থায় ছিলেন। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মুয়াজ্জিন মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, ফজরের আজানের কিছুটা সময় বাকি থাকায় আমি তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়াই। এমন সময় পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করা হয়। এ সময় চিৎকার করলে কালো জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তি পালিয়ে যায়। তবে ওই ব্যক্তি এক জোড়া স্যান্ডেল ফেলে গেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট জামে মসজিদে ৫০ বছর ধরে মুয়াজ্জিন হিসেবে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন এমদাদুল ইসলাম।

ওসমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, আহত মুয়াজ্জিন এমদাদুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সৎ মানুষ। সারাজীবন মসজিদ নিয়ে পড়ে আছেন তিনি। তার ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, মুয়াজ্জিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার একটি ক্ষতে প্রায় ১৭টি সেলাই দেয়া হয়েছে।

খোকসা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান বলেন, সোমবার সকালে খবর পেয়ে ওই এলাকায় যাই। আহত মুয়াজ্জিনকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
বিকল্প জায়গায় নয়, বাবরী মসজিদ যথাস্থানে পুন:নির্মাণ করতে হবেঃ খেলাফত মজলিস

বিকল্প জায়গায় নয়, বাবরী মসজিদ যথাস্থানে পুন:নির্মাণ করতে হবেঃ খেলাফত মজলিস



স্টাফ রিপোর্টার।। খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব শেখ গোলাম আসগর বলেছেন, ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের রায় দিয়ে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট মুসলমানদের হৃদয়ে ঘুর্নিঝড়- বুলবুল-এর চেয়েও কঠিন আঘাত হেনেছে। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত হেনে ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ভারতের সুপ্রীম কোর্টের এ রায় আমরা ঘৃনাভরে প্রত্যাক্ষাণ করছি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো। কোন ক্রমেই মসজিদের জায়গায় মন্দির নিমাণ করতে দেয়া হবে না। বাবরী মসজিদ যথাস্থানে পুন:নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে ১৯৯৩ সালে মত বাংলাদেশ থেকে অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চের ডাক দেয়া হবে। অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চ করে মুসলমানরা ভারতের দানবীয় শক্তিকে জানিয়ে দিবে আমরা ঈমান নিয়ে বেঁচে আছি।

ভারতের ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের রায়ের প্রতিবাদে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

১০ নভেম্বর বাদ যোহর পল্টন মোড়ে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী সভাপতি শেখ গোলাম আসগরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, অধ্যাপক মোঃ আবদুল জলিল, মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল ইসলাম, সাহাব উদ্দিন আহমদ খন্দকার, মোঃ আবুল হোসেন, প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, এহচ এম হুমায়ুন কবির আজাদ, হাজী হারুনূর রশীদ, কাজী আরিফুর রহমান, এ্যাডভোকেট সৈয়দ মুহাম্মদ সানাউল্লাহ, আলহাজ্ব আবদুর রহমান, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মাওলানা সরদার নেয়ামত উল্লাহ, শ্রমিক মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম, ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি ক্ েএম ইমরান হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি আজীজ উল্লাহ আহমদী প্রমুখ।

এর আগে এক বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রধান বক্তা মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, পাঁচশত বছরের পুরাতন বাবরী মসজিদ যারা ভেঙ্গেছে তাদের বিচার করতে হবে। যে জায়গায় একবার মসজিদ নির্মাণ হয় কেয়ামত পর্যন্ত সে জায়গায় মসজিদ থাকবে। বিকল্প জায়গায় মসজিদ চায় না। ভারত সরকারের দেয়া ৫ বিঘা খয়রাতী জায়গা মুসলমানরা চায় না। ভারতের প্রধান বিচারপতি তথা সুপ্রীমকোট যে রায় দিয়েছে সেটা ভারতের সংবিধান পরিপন্থী। ভারতের সুপ্রীম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতি সে কথাই বলেছেন। সুতরাং অবিলম্বে এই রায় প্রত্যাহার করতে হবে। বাবরী মসজিদ যথাস্থানে নির্মাণ করতে হবে। নতুবা সমস্ত মুসলমানরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

10 November 2019

সাক্ষাৎকারঃ পবিত্র বাবরি মসজিদে প্রথম আঘাতকারীর পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

সাক্ষাৎকারঃ পবিত্র বাবরি মসজিদে প্রথম আঘাতকারীর পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ



পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জায়গা হচ্ছে আল্লাহর ঘর পবিত্র মসজিদ । কিন্তু ওই ঘর যদি কেউ ভেঙে দেয় তা হবে খুবই নিকৃষ্ট কাজ। বলছিলাম ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত পবিত্র বাবরি মসজিদের কথা। এই  পবিত্র মসজিদ ভাঙতে প্রথম আঘাত করেছিলেন যে ব্যক্তি তার নাম বলবির সিং।

কিন্তু মহান আল্লাহ’র অশেষ রহমতে সেই বলবির সিং আজ নওমুসলিম মুহাম্মদ আমের। যে ব্যক্তি একদিন পবিত্র মসজিদ ভেঙে দিয়েছিলো তিনিই এখন পথে পথে ঘুরে আল্লাহ’র ঘর পুনর্নির্মাণ ও নতুন পবিত্র মসজিদ নির্মাণ করছেন। কিন্তু কিভাবে তার এই বদলে যাওয়া, আসুন জেনে নেই।

মুহাম্মদ আমেরঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আহমদ আওয়াহঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নঃ প্রথমে আপনার পরিচয় দিন।

উত্তরঃ জন্মসূত্রে আমার নাম বলবির সিং । ১৯৭০ সালের ৬ ডিসেম্বর হরিয়ানা প্রদেশের পানিপথ জেলার এক রাজপুত পরিবারে আমার জন্ম। আমার বাবা ছিলেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। যেকোনো ধরণের জুলুম-নিপীড়নের বিরোধী ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশ-বিভাগের সময় হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তিনি দেখেছিলেন। সে সময়কার ব্যপক মুসলিম হত্যাকে দেশের জন্য বড় ধরনের কলঙ্ক মনে করতেন তিনি। অবশিষ্ট মুসলমানদেরকে পুনর্বাসনের ব্যাপারে তিনি খুবই সাহায্য করেছেন। তিনি তাঁর বিদ্যালয়ের মুসলমান ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল রাখতেন।

গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে আমি পানিপথে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হই। মুম্বাইয়ের পর পানিপথ ছিল শিবসেনার সবচেয়ে মজবুত কেন্দ্র। বিশেষ করে যুবক শ্রেণী ও স্কুলের লোকেরা শিবসেনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। অনেক শিবসেনার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং আমিও পানিপথ শাখায় আমার নাম লেখাই।

পানিপথের ইতিহাস তুলে ধরে সেখানকার যুবকদের মধ্যে মুসলিম সম্রাটদের বিরুদ্ধে বিরাট ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ান হতো। আমার বাবা যখন জানতে পারলেন যে, আমি শিবসেনায় নাম লিখিয়েছি তখন তিনি আমাকে ইতিহাসের সূত্র ধরে বোঝাতে চেষ্টা করলেন। সম্রাট বাবর বিশেষ করে সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ন্যায় ও ইনসাফ এবং অমুসলিমদের সঙ্গে করা তার আচরণের কাহিনী তিনি আমাকে শোনান এবং আমাকে বলতে চেষ্টা করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময়কার জুলুম-নিপীড়ন, হত্যা ও ধ্বংসাত্মক ঘটনাবলী শুনিয়ে আমাকে শিবসেনার যাবতীয় কর্মকান্ড থেকে ফিরিয়ে রাখতে চেষ্টা করেন। কিন্তু আমার বাবার সেসব চেষ্টা বিফলে যায়। আমার উপলব্ধিতে কোনো কিছুই ধরা পড়েনি।

প্রশ্নঃ ফুলাত থাকাকালে পবিত্র বাবরি মসজিদ ভাঙার ক্ষেত্রে আপনার অংশগ্রহণের কথা শুনিয়েছিলেন। এবার একটু বিস্তারিতভাবে সে সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন।

উত্তরঃ ঘটনাটি এ রকম, ৯০ সালে লালকৃঞ্চ আদভানির রথযাত্রায় আমাকে পানিপথের কর্মসূচী সফল করার ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়। রথযাত্রায় দায়িত্বশীল নেতারা আমাদের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে দেন। আমি শিবজীর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, যাই কিছু ঘটুক না কেন আর কেউ কিছু করুক আর নাই করুক, আমি একাই গিয়ে রাম মন্দিরের ওপর থেকে জুলুম করে চাপিয়ে দেয়া (মসজিদের রূপে) অবকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ি দেবই। এ যাত্রায় আমার কর্মতৎপরতার ফলে আমাকে শিবসেনার যুব শাখার সহ-সভাপতিনির্বাচিত করা হয়। আমি আমার যুব টিম নিয়ে ৩০ অক্টোবর অযোধ্যায় গিয়ে পৌঁছি। বহু চেষ্টা করেও আমি বাবরি মসজিদের কাছে পৌঁছতে পারলাম না। এর ফলে আমার শরীরে ঘৃণা ও বিদ্বষের আগুন আরো জ্বলে ওঠে।

আমি আমার সাথীদেরকে বারবার বলছিলাম এরকম জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। রামের জন্মভূমিতে আরবদের কারণে রামভক্তদের ওপর গুলি চলবে, এ কেমন অন্যায় ও জুলুম! আমার খুব রাগ হচ্ছিল। আমি রাগে ক্ষোভে ফুসছিলাম।কখনো মনে হচ্ছিল যে, আমি নিজেকেই শেষ করে দেই। আমি আত্মহত্যা করি। সারা দেশে ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলছিল। আমি সেদিনের জন্য খুবই অস্থির ছিলাম যেন আমার সুযোগ মিলে যায় আর আমি নিজ হাতে বাবরি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেই। এভাবে একদিন দু’দিন করে সেই অপেক্ষার দিনটিও কাছে এসে পড়ল, যে দিনটাকে আমি সে সময় খুশির দিন ভাবতাম। আমি আমার কিছু আবেগ-দীপ্ত সাথীকে নিয়ে ৯২ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথমে অযোধ্যায় যাই। আমার সাথীদের মধ্যে যোগীন্দর পাল নামে এক যুবক ছিলেন। তার বাড়ি সোনীপথের নিকটবর্তী জাটদের গ্রামে। সে ছিল আমার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার বাবা ছিলেন একজন বিরাট জমিদার। জমিদার হলেও তিনি মানুষকে খ্বু ভালবাসতেন। তিনি তার একমাত্র ছেলেকে অযোধ্যায় যেতে বাধা দেন। তার বড় চাচাও তাকে ফেরাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সে কোনো বাধা মানেনি।

আমরা ৬ ডিসেম্বর আগের রাত্রে বাবরি মসজিদের একবারে কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছি এবং মসজিদের সামনে কিছু মুসলমানদের বাড়ির ছাদে রাত কাটাই। আমার বারবার মনে হত, না জানি আমাদেরকে ৩০ অক্টোবরের মত আজও এই ‘শুভ’ কাজ থেকে বঞ্চিত হতে হয়! কয়েকবারই মনে হয়েছে, নেতা না জানি কী করেন, আমাদরে নিজেদের গিয়েই কর সেবা শুরু করা উচিত। কিন্তু আমাদের নেতা আমাদেরকে বাধা দিলেন এবং শৃংখলার সঙ্গে থাকতে বললেন। আমি তার ভাষণ শুনতে শুনতে ঘরের ছাদ থেকে নেমে এলাম এবং কোদাল হাতে বাবরি মসজিদ ভাঙতে অগ্রসর হলাম।

আমার মনের বাসনা পূরণের সময় এলো। আমি মাঝের গম্বুজটির ওপর কোদাল দিয়ে আঘাত করলাম এবং ভগবান রামের নামে জোরে জোরে ধ্বনি দিলাম। দেখতে না দেখতেই মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল। মসজিদ ভেঙে পড়ার আগেই আমরা নিচে নেমে পড়ি। আমরা খুবই আনন্দিত ছিলাম। রাম লীলা লাগানোর পর তার সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে আমারা আমাদের বাড়ি-ঘরে ফিরে এলাম। সাথে করে নিয়ে এলাম মসজিদের দু’টুকরো করে ইট, যা আমরা খুশিমনে আমাদের পানিপথের সাথীদের দেখালাম। তারা আমাদের পিঠ চাপড়ে আমাদের কৃতিত্বে আনন্দ প্রকাশ করল। শিবসেনার অফিসেও দুটি করে ইট রেখে দেয়া হয়। এরপর এক বিরাট সভা হয় এবং সকলেই তাদের বক্তৃতায় অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আমার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে। আমি আমার বাড়ি গিয়েও অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গ একথা বলে ছিলাম।

আমার বাবা খুব অসন্তুষ্ট হন। এ ব্যাপারে তার গভীর দুঃখের কথা জানিয়ে আমাকে পরিষ্কার বলে দেন, এখন এই ঘরে আমি আর তুমি দু’জনে এক সঙ্গে থাকতে পারি না। তুমি থাকলে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব, নইলে তুমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। মালিকের ঘর যে ভেঙেছে আমি তার মুখ দেখতে চাই না। আমার মৃত্যু পর্যন্ত তুমি তোমার মুখ কখনো আমাকে দেখাবে না। আমি ধারণাও করতে পারিনি এমনটা ঘটবে। আমি তাকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম। তিনি আমাকে এও বলেন যে, এ ধরণের জালিমদের কারণে এদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অবশেষে রাগে-ক্ষোভে তিনি বাড়ি ছেড়ে যেতে উদ্যত হলেন। আমি ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরে বললাম, আপনি বাড়ি ছেড়ে যাবেন না। আমি নিজেই আর এ বাড়িতে থাকতে চাই না, যেখানে একজন রাম মন্দির ভক্তকে জালিম মনে করা হয়। এরপর আমি বাড়ি ছেড়ে চলে আসি এবং পানিপথে থাকতে শুরু করি।

প্রশ্নঃ আপনি আপনার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কিছু বলুন?

উত্তর : প্রিয় ভাই আহমদ! আমার আল্লাহ কত মেহেরবান ও দয়ালু। তিনি চাননি আমি জুলুম ও শিরকের অন্ধকারে হাবুডুবু খাই। যিনি আমাকে ইসলামের নূর ও হেদায়েত দ্বারা ধন্য করেছেন। আমার মত জালিম যে কিনা তার পবিত্র ঘরকে ভেঙেছে সে-ই তাকে হেদায়েত দানে ধন্য করেছেন।

ঘটনা ছিল, আমার বন্ধু যোগিন্দর বাবরি মসজিদের কিছু ইট এনে রেখেছিল এবং মাইক দিয়ে ঘোষনা দেয় যে, ইটগুলো রামমন্দিরের ওপর নির্মিত অবকাঠামোর। সৌভাগ্যক্রমে তা আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। সমস্ত হিন্দু ভাই যেন এর ওপর পেশাব করে। আর কী! ঘোষণা হতেই ভিড় লেগে গেল।

এবার মসজিদের যিনি মালিক তার ক্ষমতা প্রদর্শনের পালা। চার-পাঁচ দিন পর যোগিন্দরের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। সে পাগল হয়ে যায়, সম্পূর্ণ উলঙ্গ থাকতে শুরু করে। পরনে আদৌ কাপড় রাখত না। সম্মানিত জমিদার চৌধুরীর একমাত্র ছেলে ছিল সে। তার বাবা এতে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েন। ছেলের সুচিকিৎসার জন্য সাধু-সন্ন্যাসী ও আলিম-ওলামা দেখান। বার বার মহান মালিকের কাছে মাফ চাইতে থাকেন। দান খয়রাত করতে থাকেন। কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি না হয়ে বরং খারাপই হতে থাকে। একদিন তিনি বাইরে যেতেই সে তার মাকে জড়িয়ে ধরে। মা চিৎকার করতে শুরু করলে মহল্লাবাসী ছুটে এসে তাকে রক্ষা করে। এরপর থেকে তাকে শেকলে বেধে রাখা হয়। যোগীন্দরের বাবা ছিলেন খুবই সম্মানিত লোক। তিনি এই ঘটনা শুনে ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। এমন সময় কেউ তাকে বলে যে, এখানে সোনিপথে ঈদগাহের পাশে একটি মাদরাসা আছে। ওখানে একজন বড় মাওলানা সাহেব এসে থাকেন। একবার গিয়ে তার সঙ্গে আপনি দেখা করুন। এরপর যদি কিছু না হয় তখন যা হয় করবেন।

তিনি সোনীপথে যান। গিয়ে জানতে পারেন, মাওলানা সাহেব মাসের এক তারিখে আসেন। বিগত পরশু এসে পরদিন চলে গেছেন।

মাদ্রাসার ইমাম সাহেব তাকে বলেন যে, অবস্থা খারাপ হবার দরুণ ৬ ডিসেম্বরের আগে হরিয়ানার বহু ইমাম এখান থেকে উত্তর প্রদেশে চলে গিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক মাস পর্যন্ত ফিরে আসেননি। এ জন্য মাওলানা সাহেব ১ তারিখে এ বিষয়ে বক্তৃতা করেন এবং বক্তৃতায় বিরাট জোর দিয়ে একথা বলেন যে, মুসলমানরা এসব অমুসলিম ভাইকে যদি ইসলামের দাওয়াত দিতেন তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম হতো না। তিনি বলেন যে, বাবরি মসজিদ ভাঙার জিম্মাদার একদিক থেকে আমারা মুসলমানরাও। আর এখনও যদি আমাদের হুঁশ হয় এবং আমরা যদি দাওয়াতের হক আদায় করতে থাকি তাহলে এই মসজিদ যারা ভেঙেছে, তারা মসজিদ নির্মাতা হতে পারে। হতে পারে তারাই মসজিদের খাদেম।

মাদ্রাসার ইমাম সাহেব যোগীন্দরের বাবাকে বলেন, আমি ঝাড়-ফুঁক করতাম। কিন্তু আমাদের হযরত মাওলানা আমাকে একাজ করা থেকে থামিয়ে দিয়েছেন। কেননা একাজে অনেক সময় মিথ্যা বলতে এবং মহিলাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে হয়। আর আপনার ছেলের ওপর তো কোনো জাদু কিংবা জিন-ভুতের আছরও নেই বরং এ তো সেই মালিকের আযাবের ফল। আপনার জন্য একটি সুযোগ আছে। মাওলানা সাহেব আগামী পরশু বুধবার দুপুরে এখানে আসছেন। আপনি তখন তার সঙ্গে দেখা করুন এবং আপনার কথা তাকে বলুন। আপনার ছেলে আশা করি ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু আপনাকে একটি কাজ করতে হবে আর তা হলো, আপনার ছেলে যদি ভালো হয়ে যায় তবে আপনাকে মুসলমান হতে হবে। চৌধুরী সাহেব বললেন, আমার ছেলে ভালো হয়ে গেলে আমি সবকিছু করার জন্য তৈরি আছি।

বুধবার সকালে যোগীন্দরের বাবা ছেলেকে নিয়ে সেই মাদ্রাসায় গিয়ে মাওলানা সাহেবের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। দুপুর বেলা যোহরের আগেই মাওলানা সাহেবের আগমন ঘটে। শেকলে বাধা যোগিন্দর সম্পূর্ণ দিগম্বর অবস্থায় দাঁড়ানো। চৌধুরী সাহেব কাঁদতে কাঁদতে মাওলানা সাহেবের পায়ে ওপর পড়ে যান এবং বলতে থাকেন, মাওলানা সাহেব! আমি এই আহম্মকটাকে খুবই ঠেকাতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে পানিপথের এক কুচক্রীর চক্রান্তে পড়ে। মাওলানা সাহেব! আমার ওপর দয়া করুন। আমাকে মার্জনা করে দিন। আমার ঘর বাঁচান। মাওলানা সাহেব কঠোর ভাষায় তাকা মাথা তুলতে বলেন এবং পুরো ঘটনা শোনেন।

তিনি চৌধুরী সাহেবকে বলেন যে, সমগ্র জগত সংসার নিয়ন্ত্রণকারী সর্বশক্তিমান আল্লাহর ঘর মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে তারা এত বড় পাপ করেছে এবং এত বড় জুলুম করেছে যে, যদি তিনি গোটা বিশ্বচরাচর ধ্বংস করে দেন তাহলে তা যথার্থ হবে। এতো বরং কমই হয়েছে যে, এই পাপের বোঝা কেবল একাকী তার ওপর পড়েছে। আমরাও সেই সর্বশক্তিমান মালিকের বান্দা এবং এক দিক থেকে এই বিরাট পাপের অংশীদার আমরাও। আর তা এই দিক দিয়ে যে, আমরা তাদেরকে বোঝাবার হক আদায় করিনি যারা বাবরি মসজিদ ভেঙেছে। এখন আমাদের আয়ত্বে আর কিছুই নেই। আমরা কেবল এতটুকু করতে পারি যে. আপনি সেই মালিকের সামনে কাঁদেন এবং তার কাছে ক্ষমা চান। আর আমরাও ক্ষমা চাই।

এরপর মাওলানা সাহেব বললেন, মসজিদের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি মালিকের কাছে অন্তর দিয়ে মাফ চান। প্রার্থনা করতে থাকুন যে, মালিক! আমার বিপদ কেবল আপনিই দূর করতে পারেন, আর কেউ দূর করতে পারে না।

মাওলানা সাহেব মসজিদে গেলেন। নামায পড়লেন। অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত লোকদের সামনে বক্তৃতাও দিলেন এবং দোয় করলেন। মাওলানা সাহেব সকলকেই যোগিন্দর ও তার বাবার জন্য দোয়া করতে বললেন। অনুষ্ঠান শেষ হবার পর মসজিদে নাশতা হল। নাশতা থেকে মুক্ত হবার পর মসজিদ থেকে বরে হতেই আল্লাহর কী মেহেরবানি দেখুন, যোগীন্দর তার বাবার মাথা থেকে পাগড়ি টেনে নিয়ে তার উলঙ্গ শরীর ঢাকল এবং দিব্যি সুস্থ মানুষের মতো তার বাবার সাথে কথা বলতে লাগল। সকলেই এ দৃশ্য দেখে আনন্দিত হলেন।

মাদ্রাসার ইমাম সাহেব যোগীন্দরের বাবাকে তার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন এবং বললেন, যেই মালিক তাকে ভালো করে দিয়েছেন, আপনি যদি ওয়াদা মাফিক মুসলমান না হও তাহলে সে আবার এর চেয়েও মারাত্মক পাগল হতে পারে।

এরপর যোগীন্দরের বাবাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া হতেই যোগিন্দর জিজ্ঞেস করল, বাবা! আপনি, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন, মুসলমান হতে। তখন যোগিন্দর বলল, আমাকে তো আপনার আগে মুসলমান হতে হবে এবং আমাকে বাবরি মসজিদ পূর্ণবার অবশ্যই নির্মাণ করতে হবে। তারপর তারা উভয়ে খুশি মনে ওযু করলেন। তাদেরকে কলেমা পড়ানো হল। বাবার নাম মুহাম্মদ উসমান এবং ছেলের নাম মুহাম্মদ ওমর রাখা হল। এরপর তারা খুবই খুশি হয়ে নিজেদের গ্রামে ফিরে গেলেন। গ্রামে একটি ছোট মসজিদ ছিল। তারা মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। ইমাম সাহেব স্থানীয় মুসলমানদেরকে তাদের বাপ বেটার মুসলমান হবার কথা জানিয়ে দিলেন। ফলে একজন দু’জনের কান থেকে গোটা এলাকায় একথা ছড়িয়ে পড়ল। হিন্দুদের কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে এলাকার প্রভাবশালী হিন্দুদের এ নিয়ে মিটিং হয় এবং সিদ্ধান্ত হয় যে, তাদের দু’জনকেই রাতের বেলা মেরে ফেলতে হবে। অন্যথায় তাঁরা অনেক লোকের ধর্ম নষ্ট করে দেবে। তাদের এই মিটিংয়ে একজন ধর্মত্যাগী উপস্থিত ছিল। সে ইমাম সাহেবকে গোপনে তাদের চক্রান্তের কথা জানিয়ে দেয়। ফলে আল্লাহর মেহেরবানিতে রাতের অন্ধকারে তাদেরকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়া হয়। তারা ফুলাত গিয়ে পৌঁছেন। পরে তাদেরকে ৪০ দিনের জন্য তাবলিগ জামায়াতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর আমীর সাহেবের পরামর্শে যোগীন্দর (ওমর) তিন চিল্লাও দেয়। পরে যোগীন্দরের মা-ও মুসলমান হয়ে যায়।

এরপর মুহাম্মদ ওমরের (যোগিন্দর) বিয়ে হয় দিল্লীর এক ভালো মুসলিম পরিবারে। এখন তারা বেশ আনন্দের সঙ্গেই দিল্লিতে সপরিবারে বসবাস করছেন। গ্রামের জায়গা-জমি, ঘর-বাড়ি সব বিক্রি করে তারা দিল্লীতে একটি কারখানা দিয়েছেন।

প্রশ্ন : মাস্টার সাহেব! আমি আপনাকে আপনার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। আমি জানতে চেয়েছিলাম আপনি কিভাবে মুসলমান হলেন? আপনি যোগীন্দরের ও তার পরিবারের (মুসলমান হবার) কাহিনী শোনালেন। যদিও তা খুবই চমকপ্রদ ও বিস্ময়কর, কিন্তু আমি তো আপনার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাই, কিভাবে আপনি ইসলাম গ্রহণ করলেন সে সম্পর্কে।

উত্তর : প্রিয় ভাইটি আমার! আসলে আমার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী এর থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়। এজন্য আমি এর প্রথম অংশ শোনালাম। এখন দ্বিতীয় অংশ শুনুন।

১৯৯৩ সালের ৯ মার্চ আমার বাবা হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়া এবং তাতে আমার অংশ গ্রহণ তাকে খুবই আঘাত দিয়েছিল। তিনি প্রায়ই আমার মাকে বলতেন, মালিক আমাকে মুসলমানদের মধ্যে জন্ম দিলেন না কেন? আমি যদি মুসলমানদের ঘরে জন্ম নিতাম তাহলে অন্তত জুলুম-নিপীড়ন সহ্যকারীদের তালিকায় আমার নাম থাকত। তিনি আমার পরিবারের সদস্যদের বলে গিয়েছিলেন, আমি মারা গেলে আমার লাশের কাছে যেন বলবীর না আসে, প্রথা ও রেওয়াজ মাফিক আগুনে যেন পোড়ানো না হয়। হিন্দুদের শ্মশানে যেন না নেয়া হয়। পরিবারের লোকেরা তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ি সব কিছু করে। আট দিন পর আমি আমার বাবার মৃত্যু সংবাদ পাই। এত আমার মন ভেঙে যায়। তার মৃত্যুর পর বাবরি মসজিদ ভাঙা আমার কাছে জুলুম মনে হতে থাকে এবং গর্বের বদলে আফসোস হতে থাকে। আমার অন্তর যেন হঠাৎ দ্প কের নিভে যায়। আমি বাড়ি গেলে মা আমার বাবার কথা স্মরণ করে কাঁদতে থাকেন এবং বলতে থাকেন এমন একজন ভালো মানুষকে তুই কষ্ট দিয়ে মেরে ফেললি! তুই কতটা নিচ ও হীন জাতের মানুষ। মায়ের এ ধরনের আচারণের কারণে আমি বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দেই।
জুন মাসে মুহাম্মদ ওমর (যোগিন্দর) তাবলিগ জামায়াত থেকে ফিরে এলো। সে পানিপথে আমার সঙ্গে দেখা করল এবং তার পুরো ঘটনা আমাকে বলল। বিগত দু’মাস থেকে আমার মন সব সময় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকত, না জানি কোনো আসমানি বালা-মুসবিত আমার ওপর এসে পড়ে। বাবার দুঃখ ও মনোকষ্ট এবং বাবরি মসজিদ ভাঙার দরুন আমার মন সব সময় খারাপ থাকত। মুহাম্মদ ওমরের কথা শুনে আমি আরও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লাম।

ওমর ভাই আমাকে বললেন, আমি যেন ২৩ জুন সোনিপথে মাওলানা সাহেবের সাথে গিয়ে অবশ্যই দেখা করি। আরো ভালো হয় যদি তার সঙ্গে আমি কিছু দিন থাকি। আমি প্রোগ্রাম বানালাম। কিন্তু পৌঁছতে আমার কিছুটা দেরি হয়। ওমর ভাই আমার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল এবং মাওলানা সাহেবকে আমার অবস্থা সম্পর্কে সব বলেছিল। আমি সেখানে গেলে মাওলানা সাহেব আমাকে কাছে টেনে নিলেন এবং বললেন, যোগিন্দরের সঙ্গে সর্বময় মালিক যা করেছেন আপনার সঙ্গেও একই রূপ ব্যবহার করা হতে পারে। আর মালিক যদি এই জগতে শাস্তি নাও দেন তাহলে মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী জীবনে যেই শাস্তি মিলবে আপনি তা কল্পনাও করতে পারবেন না।

এক ঘন্টা মাওলানা সাহেবের সাথে থাকার পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আসমানি বালার হাত থেকে বাঁচতে হলে আমাকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে । মাওলানা সাহেব দু’দিনের জন্য বাইরে কোনো সফরে যাচ্ছিলেন। আমি তার সাথে যেতে চাইলাম। তিনি খুব খুশি হয়েই অনুমতি দিলেন।

একদিন হরিয়ানা, এরপর দিল্লী ও খোর্জার সফর ছিল। দু’দিন পর তিনি ফুলাত ফিরে এলেন। এ দু’দিন আমার মন ইসলাম গ্রহণের জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমি ওমর ভাইকে আমার ইচ্ছার কথা বললাম। সে খুব খুশি হয়ে মাওলানা সাহেবকে তা জানাল। আলহামদুলিল্লাহ! ২৫ জুন ১৯৯৩ যোহর নামাযের পর আমি ইসলাম কবুল করি। মাওলানা সাহেব আমার নাম রাখেন মুহাম্মদ আমের। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা এবং নামাযের নিয়ম-কানুন ও দরকারি মাসলা-মাসায়েল শেখার জন্য তিনি আমাকে কিছুদিন ফুলাত থাকার পরামর্শ দিলেন। আমি আমার স্ত্রী ও ছোট বাচ্চাদের সমস্যার কথা বললে তিনি বাড়ির ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি কয়েক মাস ফুলাত এসে থাকলাম এবং আমার স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কাজ করতে থাকি। তিন মাস পর আলহামদুলিল্লাহ! আমার স্ত্রীও মুসলমান হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ আপনার মা’র কী হলো?

উত্তরঃ আমি আমার মাকে মুসলমান হবার ব্যাপারে জানালে তিনি খুব খুশি হন এবং বলেন, তোর বাপের আত্মা এতে শান্তি পাবে। আমার মাও ঐ বছরেই মুসলমান হন।

প্রশ্নঃ এখন আপনি কি করছেন?

উত্তরঃ বর্তমানে আমি একটি জুনিয়র হাইস্কুল চালাচ্ছি। স্কুলে ইসলামী শিক্ষার সাথে সাথে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষারও ব্যবস্থা আছে।

প্রশ্নঃ আব্বা বলছিলেন, আপনি হরিয়ানা, পাঞ্জাবসহ বিভিন্না জায়গায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পবিত্র মসজিদগুলো পুনরায় চালু করার জন্য চেষ্টা করছেন?

উত্তরঃ ওমর ভাইয়ের সাথে মিলে আমরা ঠিক করেছি আল্লাহর ঘর ভেঙে আমরা যে বিরাট গুনাহ করেছি তার কাফ্ফারা হিসাবে আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া পবিত্র মসজিদগুলো চালু করব এবং নতুন নতুন পবিত্র মসজিদ বানাব। আমরা দু’জনে মিলে আরো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিব। আমি বন্ধ মসজিদগুলো চালু করব আর ওমর ভাই নতুন নতুন মসজিদ বানাতে চেষ্টা চালাবেন। এ ব্যাপারে মসজিদ বানাবার ও সেগুলো লোকে ভরপুর করাবার কর্মসূচি হাতে নিলাম। আলহামদুলিল্লাহ! এ পর্যন্ত আমি হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি ও মিরাট সেনানিবাস এলাকায় ১৩টি বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদ পুনরায় চালু করেছি। ওমর ভাই আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত সে ২০টি মসজিদ তৈরি করেছে এবং একুশতম মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেছে। আমরা উভয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাবরি মসজিদ ভাঙার বার্ষিকীতে ৬ ডিসেম্বর তারিখে একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদে অবশ্যই নামায শুরু করাতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আজ পর্যন্ত কোন বছরেই এটা করতে ব্যর্থ হইনি। অবশ্য শ’য়ের লক্ষ্য পূরণ এখনও অনেক দূরে। আশা করছি এবছর এর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। আটটি মসজিদ সম্পর্কে কথাবর্তা চলছে। আশা করি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেগুলো চালু হয়ে যাবে। ওমর ভাই অনেক আগেই তো লক্ষ্য অর্জনে আমার চেয়ে এগিয়ে আছে। আর আসলে আমার কাজও তো তারই ভাগে পড়ে। আমাকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসার মাধ্যম তো মূলত সেই।

প্রশ্ন : পাঠকদের জন্য আপনি কি কিছু বলবেন?

উত্তর : সকল মুসলমানের কাছে আমার একটিই নিবেদন আর তা হলো, নিজের জীবনের লক্ষ্য কী তা জেনে এবং ইসলামকে মানবতার আমানত মনে করে একে মানুষের কাছে পৌঁছে দিই, পৌঁছে দেবার কথা ভাবি। কেবল ইসলামের প্রতি দুশমনীর কারণে তার থেকে বদলা নেবার প্রতিশোধ গ্রহণে উৎসাহিত না হই। আহমদ ভাই! আমি একথা একেবারে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বাবরী মসজিদ ভাঙায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিবসেনা, বজরং দলের সদস্যসহ সকল হিন্দু যদি এটা জানত যে, ইসলাম কী! মুসলমান কাকে বলে? কুরআনুল করিম কী? মসজিদ আসলে কোনো বস্তুর নাম, তাহলে তাদের সবাই মসজিদ নির্মাণের কথা ভাবতে পারত, মসজিদ ভাঙার প্রশ্নই উঠতো না। আমি আমার প্রবল প্রত্যয় থেকে বলছি, বাল থ্যাকার, উইরে কুঠিয়ার যদি ইসলামের প্রকৃত সত্য ও মর্মবাণী জানতে পারে এবং জানতে পারে যে, ইসলাম (কেবল মুসলমানদের নয়) সবার ধর্ম, এটি আমাদের দরকার তাহলে তাদের প্রত্যেকেই নিজ খরচে বাবরী মসজিদ পূণর্বার নির্মাণ করাকে নিজেদের সৌভাগ্য ভাববে।

আহমদ ভাই! সে যাকগে, কিছু লোক তো এমন আছে যারা মুসলমানদের প্রতি শত্রুতায় বিখ্যাত, কিন্তু এখন এক শ’ কোটি হিন্দুর মধ্যে এমন এক লাখও হবে না। সত্য কথা বলতে কী, আমি বোধহয় বাড়িয়ে বলছি, ৯৯ কোটি ৯৯ লাখ লোক তো আমার বাবার মতো, যারা মানবতার বন্ধু এবং ইসলামী রীতিনীতি অন্তর দিয়েই পছন্দ করে। আহমদ ভাই! আমার বাবা (কাঁদতে কাঁদতে) কী স্বভাবগতভাবে মুসলমান ছিলেন না? কিন্তু মুসলমানরা তাকে দাওয়াত না দেবার কারণে তিনি কুফরি অবস্থায় মারা গেছেন।

মাওলানা সাহেব সত্য বলেছেন, আমরা যারা বাবরি মসজিদ ভেঙেছি তারা না জানার কারনে এবং মুসলমানদের না চেনার কারণে এমন জুলুম করেছি। আমরা অজানা ও অজ্ঞতার দরুণ ও ধরনের জুলুম করেছি। আমার পিতার কুফরি অবস্থায় মারা যাবার কথা যখন রাত্রে মনে হয় তখন আমার ঘুম পালিয়ে যায়। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুম আসে না। ঘুমের জন্য আমাকে ওষুধ খেতে হয়। হায়! মুসলমানদের যদি এই ব্যাথার অনুভূতি হতো! আল্লাহ হাফেজ।

সূত্রঃ মাসিক আরমুগান পত্রিকা
রাজারবাগ দরবার শরীফে মহাসমারোহে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী পালিত

রাজারবাগ দরবার শরীফে মহাসমারোহে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী পালিত



স্টাফ রিপোর্টার।।রাজারবাগ দরবার শরীফে মহাসমারোহে ও ব্যাপক শান শওকতে পালিত হয়েছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ উপলক্ষ্যে ‘আর্ন্তজাতিক সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন মজলিসের’ উদ্যোগে রাজারবাগ শরীফ সুন্নতি মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ‘কোটি কোটি কণ্ঠে মীলাদ শরীফ’ অনুষ্ঠান এবং ঢাকা মহানগরে শত শত গাড়ীর শহর প্রদক্ষিণ এবং হাজার হাজার প্যাকেট তবারুক বিতরণ করা হয়। এছাড়াও মজলিশের পক্ষ থেকে ৬৩ দিন ব্যাপী প্রতিযোগিতা এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলে মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশেষ নছীহত মুবারক এবং আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন রাজারবাগ দরবার শরীফের মহাসম্মানিত মুজাদ্দিদে আযম সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। শনিবার বাদ আসর থেকে ফজর পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক আলোচনা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরোধীদের প্রতি এক হাজার কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেন।

প্রধান অতিথির আলোচনায় রাজারবাগ শরীফের সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক সূরা ইউনুস শরীফের ৫৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ফযল-করম এবং রহমত হিসেবে উনার প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছেন- সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে।” এ আয়াত শরীফ অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আগমন উপলক্ষ্যে খুশী প্রকাশ করা কুল কায়িনাতের জন্য ফরজের অন্তর্ভূক্ত।

বিশেষ মোনাজাত শেষে সকালে সারাদেশ থেকে আগত হাজার হাজার মুরীদ, মুতাক্বীদ, মুহিব্বীনগণের অংশগ্রহণে এবং অনলাইনে জাজিরাতুল আরব, ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ‘কোটি কোটি কন্ঠে পবিত্র মীলাদ শরীফ’ পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলা, আরবী এবং ইংরেজী তিন ভাষায় ঘোষণা দেয়া হয়।

পবিত্র মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠানের শেষে সংক্ষিপ্ত বয়ানে দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ সাহেব পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ বিরোধীদের প্রতি এক হাজার কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেন। ‘কোটি কোটি কন্ঠে পবিত্র মীলাদ শরীফ’ অনুষ্ঠান শেষে আর্ন্তজাতিক সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন মজলিসের উদ্যোগে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শাখা সড়কসহ প্রধান প্রধান সড়কে শত শত গাড়ীর বহর ‘শহর প্রদক্ষিণ’ করে এবং হাজার হাজার প্যাকেট তবারুক বিতরণ করে। এতে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দিপনা জজবা পরিলক্ষিত হয়।

এর আগে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফের সম্মানার্থে রাজারবাগ দরবার শরীফের পক্ষ থেকে সারাদেশে পোষ্টার, ব্যানার, লিফলেট, দেয়াল লিখন, অনলাইনে ব্যাপক প্রচার প্রসার করা হয়। পাশাপাশি সংবাদ সমে¥লন এবং চিঠির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ ব্যাপকভাবে উদযাপনে ১২টি বিষয় জারীর আহবান জানানো হয়।
আজ মুসলমানদের মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন ‘ পবিত্র ঈদে মিলাদুন নবী’

আজ মুসলমানদের মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন ‘ পবিত্র ঈদে মিলাদুন নবী’



হাসান মুহম্মদঃ আজ রবিবার মুসলিম জাহানের পবিত্রতম দিন ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার জন্ম ও মৃত্যুর দিন। মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার জন্ম ও মৃত্যুর এ দিনটি সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ।

৫৭০ খ্রিস্টাব্দের পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল মাসে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ সর্বশ্রেষ্ঠ সর্বশেষ মহানবী হযরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ।

মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। উনার আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচারে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

একটা সময় পুরো আরবজাহান ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মানুষ হয়ে পড়েছিল বেদীন। তারা আল্লাহপাককে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। মারামারি আর হানাহানিতে লিপ্ত ছিল মানুষ। মূর্তি পূজা করত।

এ যুগকে বলা হয় ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’। এ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে, তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতায়ালা হজরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে এ ধরাধামে পাঠান। মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন। প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পঁচিশ বছর বয়সে মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবি খাদিজার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করেন। পবিত্র কোরআন শরিফে বর্ণিত আছে- মহানবীকে ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবী সৃষ্টি করতেন না।

এ কারণে এবং তৎকালীন আরবজাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মুহম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এছাড়াও বাণী দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দিনটি উপলক্ষে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

জাতীয় পতাকা ও ‘কালিমা তায়্যিবা’ অঙ্কিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্বীপ ও লাইট পোস্টে টাঙানো হবে। রাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় আলোকসজ্জা করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) আজ জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোয় আলোচনা সভা ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধনিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আজ উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোয় যথাযথভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হবে। দিনটি উদযাপনে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচিঃ ইফার উদ্যোগে শনিবার শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। এদিন বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইফার বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর সিরাজ উদ্দীন আহমেদ ও খন্দকার গোলাম মাওলা নকশেবন্দী। সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন এই স্থানে বাদ মাগরিব থেকে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা চলবে। ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত মসজিদের উত্তর সাহানে ইসলামী ক্যালিগ্রাফি, মহানবী (সা.)-এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী হবে।

প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। মসজিদের পূর্ব সাহানে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর বাদ মাগরিব হামদ-না’ত ও কিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ২০ নভেম্বর বাদ আসর স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

আজ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ইফার বায়তুল মোকাররম মিলনায়তনে বাদ আসর অনুষ্ঠেয় ওই সেমিনার রেকর্ড করে বাংলাদেশ বেতার ‘ক’ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে প্রচার করা হবে।

স্কুল, কলেজ, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী এবং অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২৩ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্মরণিকা’ প্রকাশ করেছে ইফা। ইফার জেলা, বিভাগীয় ও ইসলামিক মিশন কেন্দ্র, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি ও উপজেলা/জোন মডেল রিসোর্স সেন্টারে র‌্যালি, সবীনা খতম, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার জীবনীর ওপর সেমিনার/আলোচনা সভা এবং স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

আরবের মরুপ্রান্তরে ১ হাজার ৪৪৯ বছর আগের এই দিনে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আরব সমাজ যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে ছিল, তখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে সারা বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ। ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন মহানবী। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানান। সব ধরনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বহন করে এনেছিলেন তিনি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ ২৩ বছর এই বার্তা প্রচার করেন। ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

03 November 2019

গাজীপুরে একই পরিবারের ৬ জনের হিন্দু থেকে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

গাজীপুরে একই পরিবারের ৬ জনের হিন্দু থেকে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ



জেলা প্রতিনিধি।। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একই পরিবারের ছয়জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

গত শুক্রবার (০১ নভেম্বর) পবিত্র জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কুলগঙ্গা গ্রামের ওই ছয়জন আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তারা হলেন- উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কুলগঙ্গা গ্রামের অনিল চন্দ্র দাস (৭০), তার স্ত্রী শ্রীমতি রুনুবালা দাস (৬৫), ছেলে ঝন্টু দাস (৪০), ঝন্টু দাসের স্ত্রী শ্রীমতি লতা রানী দাস (৩৫), তাদের ছেলে জয়ন্ত দাস (১০) ও সৌরভ দাস (৭)।

ইসলাম গ্রহণের পর অনিল চন্দ্র দাসের নতুন নাম রাখা হয় মুহা. আতিকুল্লাহ, রুনুবালা দাসের নাম মুছা. রাবেয়া খাতুন, শ্রী ঝন্টু দাসের নাম মুহা. জাহাঙ্গীর আলম জসিম, লতা রানী দাসের নাম আয়শা খাতুন, শ্রী জয়ন্ত দাসের নাম মুহা. জাবের আহমেদ ও শ্রী সৌরভ দাসের নাম মুহা. আসাদ উল্লাহ রাখা হয়।

এ বিষয়ে নওমুসলিম মুহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জসিম ও তার বাবা আতিকুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা স্বেচ্ছায় শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমাদেরকে কেউ চাপ দিয়ে ধর্মান্তরিত করেনি।

সিংহশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশ্রাফ উদ্দিন খান আল আমিন জানিয়েছেন, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কুলগঙ্গা মসজিদে এসে শত শত মুসল্লির সামনে প্রথমে ওই পরিবারের তিন সদস্য ঝন্টু দাস, জয়ন্ত দাস ও সৌরভ দাস স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন।

মসজিদের ইমাম নুর মোহম্মদ ও মাওলানা আব্দুর রহিম কালেমা পড়িয়ে তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করান এবং পূর্বের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখেন।

পরে নওমুসলিমরা খুতবা শুনেন এবং পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেন। জুমার নামাজ শেষে ঝন্টু দাস (নতুন নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম জসিম) মসজিদের ইমামকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে মা-বাবা ও স্ত্রীসহ স্বপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

26 September 2019

ইন্দোনেশিয়ায় বিবাহ ব্যতীত নারী পুরুষের যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ করে  বিল পাশ হতে যাচ্ছে

ইন্দোনেশিয়ায় বিবাহ ব্যতীত নারী পুরুষের যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ করে বিল পাশ হতে যাচ্ছে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ককে নিষিদ্ধ করে বিল পাশ হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মঙ্গলবার সংসদে এই বিলটির বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো শুক্রবার পর্যন্ত ভোট স্থগিত করেন।

তিনি বলেছেন, নতুন আইন বাস্তবায়নের আগে আরো বিবেচনা প্রয়োজন।

দেশটির প্রস্তাবিত নতুন আইন অনুযায়ী, বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শাস্তি হিসেবে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বিয়ে ছাড়া একসাথে বসবাসের ক্ষেত্রে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি। প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতের মত প্রতীক অবমাননা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এছাড়া চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা ধর্ষণের পরিস্থিতি না হলে গর্ভপাতের শাস্তি সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড।

দেশটির প্রধান ইসলামী দল নাহদাতুল ওলামাবলেছে, এই আইনের মধ্যে দেশের সাধারণ জনগণের চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি শহরে আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে কিছু ছাত্র। বিক্ষোভরত এক নারীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা দেখা যায়, আমার দেহ কোনো সরকারের সম্পত্তি নয়।  ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ধামরাইয়ে মসজিদে নামাজরত মুসল্লীদের উপর হামলা

ধামরাইয়ে মসজিদে নামাজরত মুসল্লীদের উপর হামলা


স্টাফ রিপোর্টার।। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মসজিদে নামাজের সময় মুসল্লীদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ। এতে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫ জন। এদের দুইজনকে ধামরাই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকার ধামরাইয়ের বাইচাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ৮জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

এদিকে আজ মঙ্গলবার বাইচাইল হিজলতলী মাঠে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বাইচাইল এলাকার চানমিয়া, ময়ছেরর, বারেক, উজালা, সাহেরার নেতৃত্বে এ মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শত শত লোকজন অংশ গ্রহণ করেছে।

বাইচাইল এলাকার মহেদ আলী (৭০) বলেন, আগে আমাদের উপর হামলা হয়েছে এবং আমাদের মসজিদ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এখনো সেই মসজিদ নতুন করে তৈরি করতে পারি নাই। আবার আমাদের উপর হামলা করেছে। এতে ৫ জন মারাত্বক আহত হয়েছে।

ভূক্তভোগীরা বলেন, গত সোমবার আমরা মাগরিবের নামাজ পড়তেছিলাম। তখন নামাজের শেষ দিকে প্রতিপক্ষ গফুর ২০ থেকে ২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। তখন আমরা কোন রকমে পালিয়ে জীবন রক্ষা করি। তারপরেও ৫ জন মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেছে, এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। খোরশেদ ও মোতাহারসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে সুষ্ঠু বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

23 September 2019

শরিয়তবিরোধী কোনও আইন না করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রীঃ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

শরিয়তবিরোধী কোনও আইন না করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রীঃ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্ট।। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরিয়তবিরোধী কোনও আইন না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পালন করছেন। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের সমমান দিয়েছেন। শেখ হাসিনার সরকার ইসলাম ও ওলামা-মাশায়েখবান্ধব।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আল-আইন প্রদেশের বিভিন্ন মসজিদের বাংলাদেশি ইমাম, খতিবসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।

শেখ আব্দুল্লাহ বলেছে, বাংলাদেশের বড় একটা অংশ মাদ্রাসার শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা গেলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আলেম সমাজকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে চান বলে জানায় সে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেছে, দেশের বিপুলসংখ্যক মাদ্রাসা শিক্ষিত প্রবাসী রয়েছেন যারা খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, অনুবাদক, খাদেম হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়ে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

আল-আইন প্রদেশের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আলীর পরিচালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মীর কামাল, মাওলানা নুরুল কবির, হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আব্দুস শহীদ, মাওলানা জহির উদ্দিন, মাওলানা আজিজুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল হালিম প্রমুখ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইজে সুকৌশলে নবীজির কার্টুনের ভিডিও ছড়ানো ও আমাদের নীরবতার ভবিষ্যত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইজে সুকৌশলে নবীজির কার্টুনের ভিডিও ছড়ানো ও আমাদের নীরবতার ভবিষ্যত


রাজিব খাজা।। ইসলামবিরোধীদের একটি পলিসি হচ্ছে, ইসলামকে নিয়ে কটুক্তি করার আগে তারা পরীক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। যদি তারা দেখে, মুসলমানরা সচেতন রয়েছে তাহলে তারা আর সাহস পায়না পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার। কিন্তু যদি দেখে মুসলিমরা অসচেতন তাহলে তারা একের পর এক কটুক্তি করতেই থাকে।

মূলত একটি কথা সর্বমহলে প্রচলিত যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেই দ্বীন ইসলামের অবমাননা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। কথাটি যে অমূলক নয় তার প্রমাণ পাওয়া গেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিরোনামের ফেইসবুক পেইজে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে মানহানিকর কার্টুন প্রকাশ করার মাধ্যমে। মূলত সিংহভাগ মুসলমানদের এই দেশে আজকে যদি নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে মানহানিকর কার্টুন প্রকাশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অধিদপ্তর তথা দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি সুনিশ্চিত করা না হয় তবে এদেশের রাসুলপ্রেমিক মুসলিম জনতা রাজপথের নেমে এসে এদের বিচার করতে বাধ্য হবে।

সুতরাং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইটি ডিপার্টমেন্ট তারা তাদের ফেইসবুক পেইজ পরিচালনাকারী হিন্দু ও নাস্তিক (এডমিন প্যনেলের আইডি আমাদের নিকট আছে) ব্যক্তিদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত করুক। নচেৎ দেখা যাবে কোন নবী প্রেমিক তাদের খুজে বের করে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে হত্যা করে ফেলেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিরোনামের সেই ফেইসবুক পেইজে এই অবমাননাকর কার্টুন সরাসরি দেখানো হয়েছে। দেখুন এখানে। নিউজের জন্য ডিলিট করে দিলে আর্কাইভে প্রমান দেখুন এখানে (http://archive.is/AAWsh)

এবং বলা হয়েছে যে সেটা পর্ব এক। অর্থাৎ তারা আরো পর্ব প্রকাশ করে তারা স্মরণকালের নিকৃষ্ট অবমাননা করতে চাইছে।

কাজেই সরকার যদি এই অবমাননাকর কার্টুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, কার্টুন নির্মাতাদের ধরে ফাঁসি না দেয়, বিটিআরসির মাধ্যমে যদি ইউআরএল ব্লক না করে তবে উন্মত্ত জনরোষ সরকার পতনসহ আরো অনেক বড় দুর্বিপাক এর জন্ম দিবে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন কতটুকু শক্তিশালী তা মিসরের বর্তমানের সিসি বিরোধী আন্দোলন প্রত্যক্ষ করলেই বোঝা যায়, সেখানে সেই আন্দোলনের বিষয় যদি হয়ে থাকেন রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহলে তো কোন কথাই নাই।

22 September 2019

বৈধ সরকারের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ ইসলামে বৈধঃ মিসরের গ্রান্ড মুফতি তাইয়্যেব আজহারী

বৈধ সরকারের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ ইসলামে বৈধঃ মিসরের গ্রান্ড মুফতি তাইয়্যেব আজহারী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিসরীয় স্বৈরশাসক একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। ২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিসরে সব ধরনের গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে সামরিক শাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

দীর্ঘদিন পর রাতের নীরবতা ভেঙে আকস্মিক এ বিক্ষোভে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসছে। এর মধ্যে মিসরের প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যায়ের প্রধান ও দেশটির গ্রান্ড মুফতি ডা. আহমাদ তাইয়্যেবের একটি বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

গত বুধবার এক বিবৃ‌তিতে শাইখুল আজহার বলেন, নির্বাচিত শাসকের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ জনতা শা‌ন্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূ‌চি পালন করতে পারবে এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বৈধতা রয়েছে। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে স্বৈরশাসক সিসির বিরুদ্ধে মিসরীয় জনগণের আন্দোলন শুরু হওয়ার দুইদিন আগে গ্রান্ড মুফতির বক্তব্যটি প্রকাশিত হয়েছে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে এ কথাটি ব্যাপক তাৎপর্য বহন করছে।

ড. আহমাদ তাইয়্যিব বলেন, শাসকের বিরুদ্ধে শা‌ন্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূ‌চি শরিয়তে বৈধ। এর সঙ্গে ঈমান বা কুফরের কোনো সম্পর্ক নেই। শাসকদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীদের যারা কাফের বলে তারা ইসলাম থেকে দূরে সরে পড়েছে। তারা ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তবে শাসকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান বড় ধরনের অপরাধ ও পাপ।

তি‌নি বলেন, এমনকি যারা খোলাফায়ে রাশেদিনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান করেছে তাদেরকেও কাফের ব‌লা হয়নি।

এই ফতোয়ার ব্যাপারে মিসরের গ্রান্ড মুফতি বলেন, আল আজহার সব সময় সবার কথা বিবেচনা করে কাজ করে এবং আমাদের শক্তি-সামর্থ্য দুর্বলকারী ও প্রতিষ্ঠানটির স্বাতন্ত্র্য বিলোপকারী বিভেদ এবং বিভাজন থেকে দূরে থাকে।